বগুড়ার শহরের তিনমাথা রেলগেট এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আটককৃতদের কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জানা যায়, শনিবার (২৩ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বগুড়া শহরের ব্যস্ততম তিনমাথা রেলগেট এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ডিবি সদস্যরা ক্রেতা সেজে অবস্থান নেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণের পর ইয়াবা লেনদেনের সময় ওই দুইজনকে আটক করেন বলে জানা গেছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বর্তমানে জয়পুরহাটে এসএএফ ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্য সাইদুর রহমান (৩২) এবং অপরজন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য আব্দুল ওয়াহাব (৪০) বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইকবাল বাহার সন্ধ্যার দিকে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে।
তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নজরদারি চালিয়ে আসছিল। পরে ক্রেতা সেজে অভিযান পরিচালনা করা হলে ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে তাদের আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন যে, এমন ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বগুড়া সদর থানায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং মাদক চক্র নির্মূলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
তবে এখনো পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানা যায়।