স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট ফাইল জনসম্মুখে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই কোনো ফাইল অনুমোদনের অভিযোগ যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব অনুপস্থিত থাকলে অতিরিক্ত সচিব বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ফাইল অনুমোদনের ধাপ সম্পন্ন হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রী বা উপদেষ্টার চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা প্রশাসনিক বিধির অংশ এবং এটিকে সরাসরি বিধিবহির্ভূত হিসেবে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো নির্দিষ্ট ফাইল নিয়ে প্রশ্ন থেকে থাকে, তাহলে সেটি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা উচিত। সংশ্লিষ্ট ফাইল প্রকাশ করা হলে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান।
এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই একটি ফাইল অনুমোদন করেছিলেন। শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পিরোজপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে। সেই তদন্তের আওতায় উল্লিখিত ফাইল অনুমোদনের ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তার দাবি, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের অনুমোদন ছাড়া কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টা সরাসরি ফাইল অনুমোদন দিতে পারেন না এবং এটি প্রশাসনিক বিধি ও রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থি হতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক নিয়মের বাইরে হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই পরিষ্কার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হলে জনমনে থাকা সংশয় দূর হতে পারে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের সঠিকতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে।