ঝিনাইদহে হামলার ঘটনার তিন দিন পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের ওপর হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
সোমবার (২৫ মে) সকালে দেওয়া ওই পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তিনি ঝিনাইদহে ইসলামি চিন্তাবিদ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর–এর কবর জিয়ারত ও আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সেখানে যান। তবে সড়কের দুরবস্থা ও যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে তিনি ঝিনাইদহে পৌঁছান বলে উল্লেখ করেন।
পরে তিনি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ছবি তোলার পর হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পাটওয়ারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক এক আহ্বায়ক তাকে হুমকি দিতে শুরু করেন। তিনি বিষয়টি উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে গেলেও কিছুক্ষণ পর তার ওপর হামলা শুরু হয় বলে দাবি করেন।
তার অভিযোগ, প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এরপর ধাক্কা ও ঘুষির আঘাতে তিনি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করি। পরে জানতে পারি আমার চোখে ডিম মারা হয়েছে।”
এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস হয়ে ওঠে এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। পাশাপাশি হকিস্টিক দিয়েও হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, তাদের সহযোদ্ধারা মানবব্যারিকেড তৈরি করে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে প্রতিরোধ গড়ে তুলে কয়েকজনের কাছ থেকে হকিস্টিক ও লাঠি উদ্ধার করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু পুলিশ সদস্যের আচরণ নিয়েও তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিকে তারা একটি পরিকল্পিত ঘটনার অংশ হিসেবে সন্দেহ করছেন। যদিও স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হামলার পর বিকেলে নির্ধারিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা ও হামলার বিচার দাবিতে থানায় যান বলে জানান পাটওয়ারী। তবে সেখানে মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সার্ভার সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম বাদ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। পরে দীর্ঘ প্রায় আট ঘণ্টা পর মামলা গ্রহণ করা হয় বলে জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, হামলার পর ঝিনাইদহে তাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কয়েকজনকে আটক করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। পরে তার ফেসবুক পেজ থেকেও ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনা হয়।