পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। এর ফলে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছিলেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
জানা গেছে, পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেছেন যে, দেশের স্বার্থ এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বর্তমান পদে বহাল থাকা তার জন্য উপযুক্ত হবে না। এ কারণে তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি। পদত্যাগের আবেদন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
দীপেন দেওয়ান বর্তমানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন। তার পদত্যাগের আবেদন গৃহীত হলে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পদত্যাগপত্রের চূড়ান্ত অবস্থান এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে শারীরিক অসুস্থতা কিংবা ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পদত্যাগের নজির রয়েছে। বর্তমানে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের আবেদনও সেই ধারাবাহিকতার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।