রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযুক্তদের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় আগামী বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালতে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর বাবাসহ একাধিক সাক্ষী বক্তব্য প্রদান করেন বলে জানা গেছে। এছাড়া পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব সাক্ষ্যের মাধ্যমে ঘটনার বিভিন্ন দিক আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। শুনানি শেষে মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যক্রম নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আদালতে হাজির করার সময় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা বারবার ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন, তদন্তে এমন কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ওই বাসায় বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
তদন্ত শেষে দাখিল করা অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ঘটনার পর লাশ গোপন এবং অভিযুক্তকে সহযোগিতার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে সংশ্লিষ্ট সবার নজর রয়েছে।