সিলেটে এক সুধী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেন, দেশের ভেতরে থেকে রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়াই তাঁর দলের নীতি এবং দেশ ত্যাগ করে নিরাপদ অবস্থানে যাওয়াকে তিনি সমর্থন করেন না।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে অবস্থান করাকে যদি কেউ ‘গুপ্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, তাহলে তিনি নিজেকে ‘গর্বিত গুপ্ত’ বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে এবং সেই সময়ও তিনি দেশের মধ্যেই ছিলেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন, দেশের ভেতরে থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করাই প্রকৃত রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের পরিচয়।
জামায়াত আমীর বলেন, তাঁর দল ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের সঙ্গে থেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়। তিনি দাবি করেন, সুসময় ও দুঃসময়—উভয় অবস্থাতেই জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার তাদের রয়েছে। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিবর্তে দেশের মাটিতেই রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও বক্তব্য দেন। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার কারণে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। তাঁর দাবি, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব না দিলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সুধী সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জনসম্পৃক্ত রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ ও জনমতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে ভিন্নমতও থাকতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।