ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত আগামী রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচারক মাসরুর সালেকীন উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের পর রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত দিন ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির দিন সকালে মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। বিচার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
এর আগে মামলাটির আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও আলামতের মধ্যে ঘটনাস্থল সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, উদ্ধারকৃত আলামত, ভিডিও ফুটেজ এবং তদন্তে সংগৃহীত উপকরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ অনুযায়ী অপরাধ সংঘটনের পর একজন আসামিকে সহায়তার বিষয়টিও শুনানিতে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
শুনানিকালে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে তিনি ‘ডলার’ নামে একজনের প্রসঙ্গও আদালতে তুলে ধরেন বলে জানা গেছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তদন্ত নথি কিংবা পূর্বে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই নামের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক তথ্য এবং অন্যান্য উপাদান বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে আদালতের রায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে অপর এক আসামিকেও আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
তদন্ত শেষে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। মামলায় একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এখন মামলার চূড়ান্ত রায়ের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট পরিবার, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের।