সাভারের বিভিন্ন এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের একাংশ দাবি করেছেন, শ্রম আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করে এবং পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করেই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
শনিবার সকালে সাভারের রেডিও কলোনি ও উলাইল এলাকার কয়েকটি কারখানার সামনে শ্রমিকরা জড়ো হন বলে জানা গেছে। পরে শ্রমিকদের একটি অংশ চাকরি পুনর্বহাল এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় কিছু শ্রমিক ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সার্ভিস লেনে অবস্থান নিয়েও প্রতিবাদ জানান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি আল-মুসলিম গ্রুপের আওতাধীন সাতটি কারখানা থেকে মোট ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের দাবি, ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কর্মরত শ্রমিকদেরও বাদ দেওয়া হয়নি এবং অনেকের প্রাপ্য সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিশোধ করা হয়নি।
ছাঁটাই হওয়া কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, ঈদের ছুটির আগে তাদের আংশিক বেতন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে চাকরি হারানোর বিষয়টি জানতে পারেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানাগুলোতে নিয়মিত কাজ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও হঠাৎ করে কর্মসংস্থান হারানোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
কয়েকজন শ্রমিক আরও বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী তারা যে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে কম অর্থ পেয়েছেন বলে তাদের ধারণা। এ কারণে তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
শ্রমিক সংগঠনের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় আইনগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাদের মতে, দীর্ঘদিন কর্মরত ও অভিজ্ঞ শ্রমিকদের একটি অংশকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছাঁটাই করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি এত সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার ফলে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কাজের পরিমাণ ও অর্ডার কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কোম্পানির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সরকারি বিধি-বিধান এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করেই ছাঁটাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।