ঢাকায় আলোচিত শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আরও এক দফা পিছিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট আদালত আগামী ১৭ জুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য রবিবার (৭ জুন) দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এ বিষয়ে প্রসিকিউশন বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে তথ্য দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
শরীফ ওসমান হাদি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। জানা গেছে, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় তিনি সশস্ত্র হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের এক নেতা হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটিতে হত্যা সংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হয়। শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করলেও পরে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ কয়েকজন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক কর্মীসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি আবেদন করেন।
আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকেই সিআইডি মামলার বিভিন্ন দিক পুনরায় পর্যালোচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে বলে আইন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। আগামী ১৭ জুন নির্ধারিত তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে কি না, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।