ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। রায়ের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান ‘আলহামদুলিল্লাহ’ উল্লেখ করে রায়ের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।
তার পোস্টে বলা হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রোববার সকালে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসে। আদালতের সাম্প্রতিক এই রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অনেকেই এটিকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আলোচিত এ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।