দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় অপরাধের হার কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার ০৮ জুন ২০২৬ ইং সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে চূড়ান্ত মূল্যায়ন জনগণই করবে। তবে বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা আরও দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে সক্ষম হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও অপরাধ উদঘাটনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিলের উদ্যোগ, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পেশাদার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বহু যাত্রীর জীবন রক্ষার ঘটনা এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরী হত্যা মামলার রহস্য দ্রুত উদঘাটনের বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিতে সরকার বিশ্বাস করে। তার দাবি অনুযায়ী, দায়িত্বশীল ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি প্রদান করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মনোবল আরও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও মন্ত্রীর দাবি, বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। তিনি বলেন, কিছু প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হলেও সরকারি তথ্য ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে আগের বছরের তুলনায় উন্নতির চিত্র পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য অপরাধ পরিসংখ্যান, বিচারিক কার্যক্রম, জননিরাপত্তা এবং নাগরিকদের অভিজ্ঞতা—সব দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।
দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।