প্রায় দুই দশক পর কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১৩ জুন তিনি কক্সবাজারে পৌঁছাতে পারেন বলে দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, ১৩ জুন রাতে বিমানযোগে কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে রাতযাপন করতে পারেন। পরদিন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, জনসভা এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, সফরের অংশ হিসেবে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকায় একটি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হতে পারে। এছাড়া সংক্ষিপ্ত পথসভায় অংশগ্রহণেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
অভিযোগ উঠেছে, সফরকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রগুলো আরও বলছে, সফরের সময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে একটি বৃহৎ জাতীয় কর্মসূচির সূচনাও হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া জুলাই আন্দোলনের এক শহীদের কবর জিয়ারত, নতুন প্রশাসনিক অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিকেলে চকরিয়া এলাকায় একটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এ জনসভাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। দলীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘ সময় পর দলীয় প্রধান হিসেবে তার এ সফর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এদিকে কক্সবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতির পর কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তারা আশা করছেন, এ সফর এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।