শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পরীক্ষা মিস করা শিক্ষার্থীরা পাবেন পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পদত্যাগের পরও যেসব রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেতে পারেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি অপসারণ ইস্যুতে ডাঃ মাহমুদা মিতুর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক অবশেষে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলেন, শুরু নতুন সাংবিধানিক অধ্যায় জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আত্মসমালোচনার আহ্বান শফিকুর রহমানের রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে গুজব এড়িয়ে অপেক্ষার আহ্বান ফখরুলের ফেনীর ফ্ল্যাটে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝু/লন্ত ম/রদে/হ উদ্ধার ঘটনায় তদন্ত বহিষ্কারের পর নজরুলকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ভিডিও নিয়ে আলোচনা তীব্র রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘিরে জোর আলোচনা, সিদ্ধান্ত আসতে পারে শিগগিরই ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন মুছতে আন্দোলন চলবে, ডাঃ শফিকুর রহমান

৮ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব, স্বচ্ছতার ওপর জোর জামায়াতের

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রায় ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে জনগণের মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার দাবি, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সুশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

জামায়াতের আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের প্রস্তাবিত বাজেট কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য নয়; বরং দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখেই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সততা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে বাজেটের বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে এসব উপাদানের ঘাটতি থাকলে যে কোনো বাজেট বাস্তবায়নই কঠিন হয়ে পড়বে।

বাজেট বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও তিনি কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষ দিকে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ শেষ মুহূর্তে ব্যয়ের চেষ্টা করা হয়, যার ফলে প্রকল্পের গুণগত মান ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বর্তমান অর্থবছরের সময়সীমা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেন। তার মতে, জুলাই-জুন ভিত্তিক অর্থবছরের পরিবর্তে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর নির্ধারণ করা হলে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ মৌসুমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার কিছু সীমাবদ্ধতাও কমে আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিকল্প বা ছায়া বাজেট উপস্থাপন করা একটি প্রচলিত রাজনৈতিক চর্চা। এর মাধ্যমে দলগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নীতিগত অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পায়।

তবে প্রস্তাবিত এই ছায়া বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আরও প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews