মদ ও সিগারেটের মতো জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন বলে দাবি করা হয়েছে, নতুন বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে মূল্যচাপ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সরকারের আশা।
তিনি আরও বলেন বলে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য হিসেবে বিবেচিত মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধি একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। অথচ এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিরোধী মহলের সমালোচনা তাদের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উদ্বোধন করা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান বলে অভিযোগ উঠেছে, কয়েক দশক আগে খনন করা এই খাল পুনরায় সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বলেন বলে জানা গেছে, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কয়েক হাজার কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি বিভিন্ন সহায়তা ও সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন বলে দাবি করা হয়েছে, কর কাঠামোয় আনা পরিবর্তনের ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিরোধী দলের সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন বলে জানা গেছে, উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণীত বাজেটকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণ বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল সম্পর্কে অবগত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকার দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সূত্রগুলো জানিয়েছে।