দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আদ-দ্বীন হাসপাতাল সম্পর্কিত বিষয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন চিকিৎসক ডা. খালিকুজ্জামান।
ফেসবুকে প্রকাশিত ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনীতি থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার বা লুটপাটের অভিযোগে সমালোচিত একটি গোষ্ঠীকে পুনরায় গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সময়ে আদ-দ্বীন হাসপাতালের মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিকেও তিনি উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডা. খালিকুজ্জামানের দাবি, একদিকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে তিনি অতীতের কিছু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রবণতার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সময়ে আর্থিক কেলেঙ্কারি, ব্যাংক খাতের সংকট এবং অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, তাদের নিয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা হলে তা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহল থেকে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে অনেকেই।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য—দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অতীতে বিতর্ক কিংবা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, তাদের নিয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক।
ডা. খালিকুজ্জামানের ফেসবুক পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার কেউ ভিন্নমতও প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।