Eng
খুলনা, জাতীয়, লিড নিউজ, সারা দেশ

নদী খননের মাটিতে চাপা আশ্রয়ণ ঘর, উৎকণ্ঠায় শতাধিক পরিবার

প্রকাশিত: , ১৫ ২০২৬ | ০:২১ অপরাহ্ণ




খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় নদী পুনঃখনন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশ কয়েকটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদী থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের পাশে ফেলে রাখার কারণে বসবাসকারীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। কোথাও কোথাও ঘরের দেয়াল ও জানালার ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চুকনগর, কাঠালতলা ও খর্নিয়া এলাকায় অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন ভদ্রা নদীতে পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। এ কাজের অংশ হিসেবে উত্তোলিত মাটি প্রকল্প এলাকার আশপাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কিছু ঘর মাটির চাপে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করছেন বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মাটির চাপের কারণে কয়েকটি ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু স্থানে কাদা ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভারী বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অনেক পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
খর্নিয়া এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, নদী খননের সময় ঘরের খুব কাছাকাছি পর্যন্ত মাটি অপসারণ করা হয়েছে। এতে ঘরের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত কিছু টিউবওয়েল অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক নারী বাসিন্দা বলেন, জোয়ার বা ভারী বর্ষণের সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে তারা উদ্বিগ্ন। নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় কয়েক বছর আগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হয়। দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর নির্মাণ করে তাদের বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে নদী খনন কার্যক্রমের কারণে এসব পরিবারের একটি অংশ নতুন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে যশোর ও খুলনার কয়েকটি নদীর পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় হরিহর, হরি-তেলিগাতী, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীর বিভিন্ন অংশে খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, জলাবদ্ধতা দূর করা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু ঘরে নদী খননের মাটি উঠে যাওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নদী পুনঃখননের সুফল বজায় রেখেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে।