ভোলা সদর উপজেলার একটি গ্রামে এক তরুণীর মৃত্যুর পর তাকে জীবিত অবস্থায় দাফন করা হয়েছে—এমন দাবি ও গুজবকে কেন্দ্র করে ১৮ দিন পর তার কবর খননের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে কবর খননের পর এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চররমেশ গ্রামের বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার (২০) নামে এক তরুণী ঈদুল আজহার ছুটিতে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য তিনি কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাড়িতে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও ঈদের দিন ভোরে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানান। একই দিন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দাফনের কিছুদিন পর এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন স্বজনের দাবি ছিল, তারা স্বপ্নে মরিয়মকে দেখেছেন এবং তিনি নাকি জীবিত থাকার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি করে। এসব দাবিকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন অনেক কৌতূহলী মানুষ কবরস্থানে ভিড় করতে থাকেন বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় একটি মসজিদের খতিব জানান, মরিয়মের জানাজা তিনি পরিচালনা করেছিলেন। তার কাছে পরিবারের কয়েকজন সদস্য স্বপ্নের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তবে তিনি এ ধরনের দাবির বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনদের উদ্যোগে কবর খনন করা হয়। ঘটনাস্থলে কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। কবর খননের পর মরদেহে স্বাভাবিক পচন প্রক্রিয়া দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন। জীবিত থাকার কোনো লক্ষণ কিংবা কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার বিষয়েও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন বলেন, গুজব ও সন্দেহ দূর করতেই কবর খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আরেকজনের ভাষ্য, কবর খোলার পর প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, কবর খননের বিষয়ে আগে থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। স্বজনরা আগে কিছু দাবি নিয়ে কথা বললেও কবর খননের ঘটনা পরে জানতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবের অবসান হয়েছে বলে স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও লোকমুখে প্রচারিত তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।