নীলফামারীর একটি সংসদীয় আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি তার বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিলে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারের একাধিক সদস্যের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন। ওই বক্তব্যে তিনি পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি তার বাবা ও দাদা শহীদ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন বলে আলোচনায় আসে।
এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে। মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে। এ কারণে তার বক্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা সামনে আসে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী বর্তমানে জীবিত রয়েছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ এলাকায় বসবাস করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংসদ সদস্যের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মুনতাকিম বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তার মাথাব্যথাসহ শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে বক্তব্যের একটি অংশে ভুল তথ্য চলে এসে থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ সদস্যের দাবি, তার বাবা জীবিত আছেন এবং তিনি কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা, বিশেষ করে তার দাদা ও এক চাচা শহীদ হয়েছেন বলে তিনি জানান। বক্তব্য প্রদানের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তথ্যগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যদি তার বক্তব্যের কারণে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে তিনি সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে দেশের জনগণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনাও করেছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে আলোচনা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন, যাতে কোনো ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।