জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শাহবাগ আন্দোলনের প্রসঙ্গ নিয়ে ডেপুটি স্পিকারকে উদ্দেশ করে বক্তব্য দিয়েছেন নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি বলেন, অতীতে শাহবাগ নিয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছিল, তার জবাব দিতেই তিনি বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছেন।
রোববার অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ডেপুটি স্পিকার একসময় মন্তব্য করেছিলেন যে, “এটা শাহবাগ না”। এর জবাবে তিনি দাবি করেন, তারা শাহবাগের আন্দোলন ও চেতনা থেকেই উঠে এসেছেন এবং সেই আদর্শ নিয়েই জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সংসদীয় কার্যক্রমে উপস্থিত সদস্যদের সামনে তিনি আরও বলেন, শাহবাগকে খাটো করে দেখার যে প্রবণতা রয়েছে, তা দেশের বিভিন্ন গণআন্দোলনের অবদানকে অবমূল্যায়নের শামিল হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে শাহবাগের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
এর আগে একই অধিবেশনে বাজেট এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধী দলের বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয় বলে জানা গেছে। বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে কিছু বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে একজন সংসদ সদস্য দাবি করেছিলেন যে কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে তিনি সেই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, বিএনপি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা শ্রেণির জন্য নয়, বরং দেশের সব মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়।
নিলোফার চৌধুরী মনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদে তরুণ প্রতিনিধিদের একটি অংশ তাদের বক্তব্যে তরুণ সমাজের বাস্তব সমস্যা ও চাহিদার পরিবর্তে অন্য বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একজন সংসদ সদস্য নিজের পারিবারিক পরিচয় প্রসঙ্গে এমন একটি তথ্য দিয়েছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; বরং জনগণের কল্যাণে কাজ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সংসদ অধিবেশনে এসব বক্তব্য ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে জানা গেছে। শাহবাগের ইতিহাস, রাজনৈতিক আন্দোলনের ভূমিকা এবং তরুণ নেতৃত্বের অবস্থান নিয়ে আগামী দিনগুলোতেও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
উল্লেখ্য, সংসদে উত্থাপিত এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমতও থাকতে পারে।