ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার রাতে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। আকস্মিক এই কম্পনের ফলে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ও ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২২ জুন) রাত প্রায় ৯টা ২৯ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলের বাসিন্দারা কম্পন টের পাওয়ার কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই ভূমিকম্প অনুভব করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির প্রাথমিক তথ্যে ভূমিকম্পের ঘটনা নিশ্চিত করা হলেও শুরুতে এর মাত্রা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, কম্পনের উৎপত্তিস্থল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার আশপাশের এলাকায় হতে পারে।
ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ঢাকা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। এছাড়া ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ১৬ কিলোমিটার ছিল বলে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অগভীর গভীরতায় উৎপন্ন ভূমিকম্প অনেক সময় অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হতে পারে।
ভূমিকম্পের পরপরই অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার কারণে ভবনের বাইরে অবস্থান নেন। বিশেষ করে বহুতল ভবনে বসবাসকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা যায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা জরুরি পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অনুসরণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের কারণে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।