নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় মায়ের মৃত্যুতে জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আইয়ুব বাবুল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২২ জুন) রাতে সীমিত সময়ের জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি মায়ের জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আইয়ুব বাবুলের মা আমজুমান আরা বেগম (৮০) সোমবার দুপুরে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
মায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে আইয়ুব বাবুলকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। আবেদন পর্যালোচনার পর তাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পটিয়ায় আনা হয়। পরে পটিয়া আদালত জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জানাজায় তিনি অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মায়ের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত কয়েকজন মুসল্লি জানান, আইয়ুব বাবুল সেখানে মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি আবেগঘন বক্তব্যে মায়ের যথাযথ সেবা করতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বলেও উপস্থিতরা জানিয়েছেন।
পারিবারিক সদস্যদের দাবি, জানাজা ও দাফন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি কিছু সময়ের জন্য বাড়িতে অবস্থান করেন। পরে নির্ধারিত সময় শেষ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইয়ুব বাবুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার প্রেক্ষিতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ বিষয়ে দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আদালত ও প্রশাসনের অনুমোদন অনুযায়ী আইয়ুব বাবুলকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জানাজা ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত সময় শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মায়ের শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমতও রয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, প্যারোল হলো বিশেষ পরিস্থিতিতে কারাবন্দিকে নির্দিষ্ট শর্তে অস্থায়ীভাবে মুক্তি দেওয়ার একটি আইনগত ব্যবস্থা, যা প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।