ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতিরও প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদীয় আলোচনায় বাজেট বরাদ্দ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উঠে এলে হাসনাত আবদুল্লাহ তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেননি যে তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো বরাদ্দ দিতে হবে; বরং তার বক্তব্যের কারণে যেন এলাকার সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের বঞ্চনার শিকার না হন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হয় এবং কোনো ব্যক্তিকে আলাদাভাবে অর্থ দেওয়ার বিষয় নয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনার বিষয়ও সংসদে উল্লেখ করেন বলে জানা গেছে।
পরে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পেয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো নিজের জন্য বরাদ্দ চাওয়ার কথা বলেননি। বরং তার বক্তব্যের কারণে এলাকার মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে এবং জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে এবং এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যদি কোনো সংস্থা সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে এক টাকারও দুর্নীতি, অনিয়ম বা অসৎ উপায়ে অর্থ অর্জনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে প্রস্তুত।
তার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উচিত অভিযোগের ভাষায় মন্তব্য না করে তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা। প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ বা ইঙ্গিতমূলক বক্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও বিভক্ত করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সংসদে দেওয়া এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে মতামত ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।