ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রবিবার রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। রাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে এই কম্পনের ঘটনা ঘটে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া এই ভূমিকম্পে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ও ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল কক্সবাজার ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের অল্প গভীরে হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জানিয়েছেন। তবে সরকারি বা দায়িত্বশীল কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, কম্পন অনুভূত হওয়ার পর অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে বহুতল ভবনে অবস্থানকারীদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে ভূমিকম্পের মাত্রা তুলনামূলক কম হওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পের ফলে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য সংগ্রহ করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে।
রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ভূমিকম্পের কারণে প্রাণহানি কিংবা উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ক্ষতির কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। তবে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।