ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মাহমুদা মিতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।
রোববার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পর তার জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি মানসিক চাপের পাশাপাশি শারীরিক বিভিন্ন সমস্যারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
পোস্টে ডা. মিতু লিখেছেন বলে জানা গেছে, একসময় তার জীবন ছিল অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও আনন্দময়। মানুষের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে সময় কাটাতেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে তার জীবনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেকের ধারণা রাজনৈতিক পদ বা সংসদ সদস্য হওয়ার মাধ্যমে মানুষ কেবল সুবিধাই পেয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় তেমন নয় বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। তার দাবি, পেশাগত জীবনে তিনি এমন অবস্থানে ছিলেন, যেখানে চাইলে আরও বেশি আর্থিক সুবিধা অর্জন করা সম্ভব ছিল। তবে বর্তমান দায়িত্ব ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে জীবনের অনেক স্বাভাবিক আনন্দ থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. মিতুর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথে অনেক সময় ব্যক্তিগত মতামত বা অবস্থান প্রকাশের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। বিভিন্ন বিষয়ে আপস করতে হয় এবং সবসময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব হয় না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এছাড়া জাতীয় সংসদে জুলাই আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা হলে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। ওই সময়ের স্মৃতি তাকে এখনও নাড়া দেয় এবং অনেক অনুভূতি নিজের মধ্যে চেপে রাখতে হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, ক্ষমতা বা রাজনৈতিক অবস্থান সবসময় একজন মানুষকে স্বস্তি দেয় না। বরং কখনও কখনও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং নিজের স্বকীয়তার বিনিময়ে বড় ধরনের মূল্য দিতে হয়। যারা এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যান, তারাই এর প্রকৃত ভার অনুভব করতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন ডা. মিতু। তার মতে, বর্তমান সময়ে অনেকেই হয়তো এর গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন না, তবে ভবিষ্যতে এর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের অপ্রকাশিত কষ্ট ও নীরব অনুভূতিও আল্লাহ জানেন। তিনি সবকিছু দেখেন এবং সর্বোত্তম বিচারক হিসেবে সত্যকে মূল্যায়ন করবেন বলেও নিজের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন।