নিজস্ব সংবাদদাতা: লালমনিরহাট:
লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কায়েম-রুদ্রেশ্বর-ইশোরকোল সড়কের একটি অংশে বড় ধরনের ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং যানবাহন চলাচলেও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি সড়কটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে খবর পাওয়ার পর কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে সড়কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনের নির্দেশনার পর ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি সাময়িকভাবে সতর্কতামূলক চিহ্নের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানে লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যাতে পথচারী ও যানবাহনের চালকরা আগে থেকেই সতর্ক হতে পারেন।
কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক জনপ্রতিনিধি জানান, সড়ক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, ধসের কারণে সড়কটি ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ, মোটরসাইকেল আরোহী, অটোরিকশা চালক এবং ভারী যানবাহনের চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না করা হলে বর্ষাকালে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও সৃষ্টি হতে পারে।
এলাকাবাসীর মতে, কায়েম-রুদ্রেশ্বর-ইশোরকোল সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তবে সড়ক সংস্কারের কাজ কখন শুরু হবে বা কত সময়ের মধ্যে শেষ হবে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।