গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকার জরুনে অবস্থিত ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েকদিন ধরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে কর্মস্থলে গিয়ে শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকে টানানো বন্ধের নোটিশ দেখতে পান।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে কিছু শ্রমিক নিয়মিত কাজ না করে কর্মবিরতি পালন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রমিকরা কারখানায় উপস্থিত হয়ে হাজিরা নিশ্চিত করলেও উৎপাদন কার্যক্রমে অংশ নেননি। একাধিকবার কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করার অনুরোধ জানালেও তারা তাতে সাড়া দেননি বলে দাবি করা হয়।
আরও অভিযোগ করা হয়, ৩০ জুনও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রমিকরা কিছু সময় কাজ করলেও পরে আবার কাজ বন্ধ করে দেন। এ পরিস্থিতিকে কর্তৃপক্ষ অবৈধ ধর্মঘটের শামিল বলে উল্লেখ করে জানায়, অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কারখানা বন্ধ থাকবে। পুনরায় চালুর তারিখ পরবর্তীতে নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুন কারখানার এক নারী সহকর্মী রুবিনা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে কারখানার মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর একটি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর হৃদরোগ বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তার মৃ/ত্যু হয় বলে শ্রমিকরা জানান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সহকর্মীর অসুস্থতার সময় দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে অংশ নেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, মৃ/ত রুবিনা বেগম সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ইসলাম গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তানভীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে ব্যস্ততার কথা জানান। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে যথাসময়ে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে কোনও ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ওই শ্রমিক আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা ছিল যে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনও পক্ষ অস্থিরতা বা ভাঙচুরের চেষ্টা করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই তারা সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। তবে বুধবার বিকাল পর্যন্ত কারখানা এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ছিল বলে জানান তিনি।