নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী:
নরসিংদীতে এইচএসসির বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ভুলবশত আগের বছরের প্রশ্নপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০১ নম্বর পরীক্ষাকক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন পরীক্ষার্থী বুঝতে পারেন যে তাদের হাতে দেওয়া প্রশ্নপত্রটি চলতি বছরের নয়, বরং আগের বছরের সিলেবাসভিত্তিক। বিষয়টি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলে পরে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। তবে প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের কারণে পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময় পাননি বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অনেক শিক্ষার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাছিমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, একটি কক্ষে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তা সংশোধন করে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিষয়টি নিয়ে তারা বিব্রত।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে কেন্দ্র সচিব জানান। এছাড়া কীভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের জন্য প্রতিনিধিও পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক বলেন, এ ধরনের বিষয়ে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার তাদের নেই। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্র পরিচালনার বিষয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে করণীয় নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।