নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার একটি বাজারে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মানসিক ভারসাম্যহীন ও বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধ/র্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকা থেকে অভিযুক্ত মো. খোকন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। রাতের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম।
ওসি জানান, ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার শিকার নারী বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার কাছ থেকে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে পরিচয় শনাক্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, নারীর পরিচয় নিশ্চিত হলে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। সে ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। আর যদি পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয়, তাহলে স্থানীয় বাজার কমিটির দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি মামলার বাদী হতে পারেন। তবে বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি গত ৩০ জুন ভোররাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিজয়পুর বাজার এলাকায় ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি কনফেকশনারি দোকানের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে পুরো ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে শনিবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়, ভোরের দিকে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক নারীর কাছে একজন ব্যক্তি এগিয়ে যান। পরে আশপাশ পর্যবেক্ষণ করার পর তিনি ওই নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় বাজারের এক নৈশপ্রহরীর সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে কথা বলতেও দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া এলাকায় জুয়া পরিচালনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।