ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দুই দিনেই দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও ফলাফলের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
জানা গেছে, কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ২০২৬ সালের সিলেবাসের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও আবার অনিয়মিত ও নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এতে পরীক্ষা পরিচালনার সময় কিছু কেন্দ্রে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জামালপুরের একটি কেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় প্রায় ১০০ পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সিলেবাস দেখে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিজেদের কোনো ভুল না থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ভুল ভবিষ্যতে ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওই কেন্দ্রের অধ্যক্ষ গণমাধ্যমকে বলেন, বাইরে থেকে পাওয়া প্রশ্নপত্রের বান্ডেলের গায়ে ২০২৬ সালের সিলেবাস উল্লেখ থাকলেও ভেতরে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে বান্ডেল খোলা সম্ভব না হওয়ায় বিষয়টি আগে শনাক্ত করা যায়নি। পরে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে নরসিংদীর দুটি পরীক্ষাকেন্দ্রেও প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে টাঙ্গাইলের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রেও একজন পরীক্ষার্থীকে ভুলবশত আগের বছরের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ২০ মিনিট পর বিষয়টি শনাক্ত হলে তাকে সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। তবে এর মধ্যে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় পরীক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
এমন ঘটনার পর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সব পরীক্ষাকেন্দ্রকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পৃথক কক্ষে বসানোর নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় কিছু কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কোথাও অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে জারি করা এক নোটিসে কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনরায় সতর্ক করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানো এবং সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ত্রুটি ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।