নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি আরও কার্যকর করতে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তার ভাষ্য, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে অর্থনীতিবিদদের গবেষণা ও সুপারিশকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ও রপ্তানি প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে। কর্মশালাটির আয়োজন করে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করলেই তা সফল হবে না। সেগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার, কার্যকর সিদ্ধান্ত এবং একটি সুসংগঠিত বাস্তবায়ন কাঠামো। তার মতে, অর্থনীতিবিদদের গবেষণা ও বিশ্লেষণ জনগণের উপকারে আসতে হলে তা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত হওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই রাজনীতির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বর্তায়। এ কারণে অর্থনীতি ও রাজনীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জহির উদ্দিন স্বপনের দাবি, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে বলে তিনি জানান।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত সময় চাওয়ার উদ্দেশ্য কোনো চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করাই সরকারের লক্ষ্য।
তথ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পাবে। সেই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নীতিগত সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আগামী তিন বছর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে রপ্তানির পথে থাকা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন। পাশাপাশি গবেষণার মাধ্যমে অর্থনীতিবিদরা বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেসব সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কর্মশালায় র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।
বক্তারা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।