ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
দেশের নিবন্ধিত অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোকে সরকারি বিজ্ঞাপন নীতিমালার আওতায় আনার দাবি উঠেছে। এ লক্ষ্যে কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রকাশক প্রতিনিধিরা তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অনলাইন সংবাদমাধ্যম খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে সরকারি বিজ্ঞাপন নীতিমালায় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি না থাকায় নিবন্ধিত অনেক পোর্টাল আর্থিকভাবে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। তাদের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম দেশের গণমাধ্যম খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে। তাই সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনের ক্ষেত্রেও তাদের বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, দ্রুত সংবাদ পরিবেশন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সচেতনতা তৈরিতে অনলাইন সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু নীতিগত কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাতের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৈঠকে অনিবন্ধিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মত দেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রতিনিধিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে বৈঠক-সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদসহ বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, প্রকাশক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা অনলাইন সংবাদমাধ্যম খাতের সার্বিক উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা এবং টেকসই আর্থিক কাঠামো গঠনের বিষয়েও নিজেদের মতামত তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সংবাদপাঠের বড় একটি অংশ এখন অনলাইনমুখী হওয়ায় এই খাতের জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সরকারি বিজ্ঞাপন নীতিমালায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে কিংবা কবে তা বাস্তবায়ন হতে পারে—সে বিষয়ে বৈঠকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে একদিকে যেমন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা আরও উৎসাহিত হবে, অন্যদিকে তথ্যপ্রবাহের মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।