ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার তার এই সফরের সময় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যায়। বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিবন্দি অনেক মানুষ তাকে দেখে এগিয়ে আসেন এবং নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
অভিযোগ উঠেছে, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে গুনাগরি এলাকার বহু পরিবার কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক বাড়িতে কোমরসমান কিংবা তারও বেশি পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন স্কুলে, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ডা. শফিকুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান, যেখানে আশ্রয় নেওয়া কয়েকটি পরিবারের হাতে নগদ সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া, বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি পানিবন্দি কয়েকটি বাড়ির কাছেও যান এবং সেখানে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, অনেক জনপ্রতিনিধি বা বিভিন্ন ব্যক্তি এলাকা পরিদর্শনে এলেও সবাই দুর্গত মানুষের ঘরের সামনে পর্যন্ত যাননি। তবে ডা. শফিকুর রহমান পানির মধ্য দিয়ে কয়েকটি বাড়ির কাছে পৌঁছে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে তারা অভিযোগ ও মন্তব্য করেছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করা কয়েকজন নারী বলেন, তারা কয়েকদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। তাদের দাবি, ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও শিশুদের জন্য জরুরি সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। তারা আরও বলেন, বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচির উদ্দেশ্যে নয়, বরং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব অবস্থা দেখতে এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেখানে গিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠে না গেলে মানুষের কষ্টের প্রকৃত চিত্র উপলব্ধি করা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা ও দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান বলেও জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, গুনাগরি এলাকায় এখনও অনেক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।