ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
বিশ্বকাপে আলোচিত পারফরম্যান্সের পর মিশর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পথচলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) তার চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) ইএফএর পক্ষ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। সংস্থাটির সভাপতি হ্যানি আবু রিদা বলেন, পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন চুক্তির আওতায় আগামী চার বছর মিশর জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকতে পারেন হোসাম হাসান। যদিও চলতি বিশ্বকাপ চলাকালে তিনি আনুষ্ঠানিক নতুন চুক্তি ছাড়াই কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও বিশ্বকাপ শুরুর আগে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোসাম হাসানের অধীনে মিশরীয় ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ নয়, বরং বিশ্লেষকদের মতে, তার নেতৃত্বে দলটি আত্মবিশ্বাসী ও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় মিশর।
চলমান বিশ্বকাপেও দলটির পারফরম্যান্স ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি প্রথমবার নকআউট পর্বে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করে ফারাওরা।
গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় মিশর। এরপর বেলজিয়াম ও ইরানের বিপক্ষে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে পরবর্তী পর্বে ওঠে বলে জানা গেছে। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায় দলটি।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও মিশরের লড়াকু পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফলাফল যাই হোক, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের লড়াই আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে হোসাম হাসানের কৌশল, অভিজ্ঞতা এবং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে।
কোচিংয়ের আগে খেলোয়াড় হিসেবেও হোসাম হাসান ছিলেন মিশরের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ১৭৭টি ম্যাচে ৬৯টি গোল করেছেন বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উল্লেখ রয়েছে। এখনও তিনি মিশরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।
ফুটবলার ও কোচ—দুই পরিচয়েই দেশের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবেই তার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এখন ২০৩০ সাল পর্যন্ত তার নেতৃত্বে মিশর আরও বড় সাফল্যের পথে এগোতে পারে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।