ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১২ জুলাই) ভোরে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
এদিকে, মৃত্যুর আগের দিন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বও পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবনজুড়ে সংসদীয় কার্যক্রম, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রায়ই আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
তার মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অনেকেই তার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
জানাজা ও দাফনের সময়সূচি সম্পর্কে এখনও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা শেষে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হবে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন প্রবীণ রাজনীতিকের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে বলে বিভিন্ন মহলে মন্তব্য উঠেছে। তবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো ভবিষ্যতেও আলোচনায় থাকবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনের তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং দলীয় নেতাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী বিষয়টি হালনাগাদ হতে পারে।