মোঃ শাহাদাত হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপের একটি চালান জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এ অভিযান পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ চকপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের নামো চকপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। টহল দলের নেতৃত্বে ছিলেন নায়েক মো. আব্দুর রহমান।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানটি সীমান্ত পিলার ১৮৩/৩-এস থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় থাকা ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপের ২৯০ বোতল উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব সিরাপ ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে অপব্যবহার করা হয়ে থাকে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের প্রকৃত মালিক বা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া Eskuf সিরাপ জব্দ করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, বিজিবি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তপথে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ মাদক প্রবেশ কমিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।