নিজস্ব প্রতিবেদক:
এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষার কিছু প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দেখা হবে এবং প্রশ্নে কোনো ধরনের ত্রুটি, অসঙ্গতি বা মূল্যায়ন-সংক্রান্ত সমস্যা পাওয়া গেলে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থী যাতে প্রশ্নের সম্ভাব্য ত্রুটির কারণে ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পর্যালোচনায় যদি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়, তাহলে বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই পর্যালোচনা শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে একদিকে যেমন পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় থাকে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত বলে তারা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে বলে জানা গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।