নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম:
দেশের বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিক্ষোভের মধ্যে সরকার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে বুধবার (১৫ জুলাই) নির্ধারিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা গেছে যে চট্টগ্রাম বোর্ডের বাইরে দেশের অধিকাংশ এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ রয়েছে। তাই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় আবহাওয়া অধিদপ্তর, বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বলা হয়েছে।
এদিকে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বা স্থানীয় কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে বলেন মুখপাত্র মাহদী আমিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা বা যোগাযোগ সমস্যার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে জটিলতা দেখা দিলে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি কিংবা প্রয়োজন হলে পরীক্ষা স্থগিতের মতো সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রশাসন নিতে পারবে।
এ ছাড়া জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যদি কোনো পরীক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারেন, তাহলে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে তার পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে।
পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির যথাযথ মূল্যায়নের স্বার্থেও সময়মতো পরীক্ষা সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল থাকার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বলা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বৈরী আবহাওয়া এবং কিছু বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব ইস্যুতে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় আয়োজনের ঘোষণা দেন বলে জানা গেছে। এরপর আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।