নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) বলে সংস্থার এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত খাদ্য পরীক্ষার সময় সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য মানদণ্ড লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে। এরপর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযোগের আওতায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’, ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং আরবোটিং ফুড কোম্পানি লিমিটেডের ‘আরবোটিং ফুড স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’।
বিএফএসএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উল্লিখিত খাদ্যপণ্যগুলোর উৎপাদন, বিপণন এবং বিক্রি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে থাকা পণ্যগুলোও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি, নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন করে থাকে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ভোক্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএফএসএ বলেছে, যেসব খাদ্যপণ্য নিয়ে অভিযোগ উঠেছে বা যেগুলো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে, সেসব পণ্য কেনা বা ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে খাদ্য কেনার সময় পণ্যের মোড়ক, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের সময় এবং প্রস্তুতকারকের তথ্য যাচাই করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হলে দীর্ঘমেয়াদে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়াতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদক, পরিবেশক, বিক্রেতা এবং ভোক্তা—সবার সম্মিলিত সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।