নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার একটি আদালত ১১২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে জামিন দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, একই মামলার অন্য আসামিরা এর আগেই জামিন পেয়েছেন। আদালতের সর্বশেষ আদেশের মাধ্যমে সালমান এফ রহমানও এই মামলায় জামিন লাভ করেন বলে জানানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের (এক্সিম ব্যাংক) একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং নির্বাহী কর্মকর্তারাও রয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেড, এসকর্প হোল্ডিং লিমিটেড, এসএফআর হোল্ডিং লিমিটেড, এএসআর হোল্ডিং লিমিটেড এবং বেক্সিমকো হোল্ডিং লিমিটেডের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঋণের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি ফেরত আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান অনুসরণ করে নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের আহ্বান জানানো হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপরই আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তারের কথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মামলায় চলতি বছরের ৭ মে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয়—এ বিষয়টিও আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।