ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
নিয়মিত হাঁটা সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে জানা গেছে। তরুণদের তুলনায় বয়স্কদের শরীরের ভারসাম্য, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং শারীরিক সক্ষমতায় পরিবর্তন আসে। ফলে সামান্য অসাবধানতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটতে বের হওয়ার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। যাদের দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা রয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যাবে—এমন একজন স্বজনের ফোন নম্বর নিজের কাছে রাখা উপকারী হতে পারে।
হাঁটার সময় সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো আকস্মিক শারীরিক সমস্যা বা দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত পরিবারের সদস্য বা জরুরি সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হয়। বিশেষ করে যাদের দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি আগের তুলনায় দুর্বল, তাদের রাতে হাঁটার পরিবর্তে দিনের আলোতে বা পর্যাপ্ত আলোকিত স্থানে হাঁটা নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
হাঁটার স্থান নির্বাচনেও সচেতন থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরম বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাইরে হাঁটা অনেকের জন্য কষ্টকর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা আরামদায়ক পরিবেশে হাঁটার ব্যবস্থা থাকলে সেটি বেছে নেওয়া যেতে পারে। সমতল ও নিরাপদ পথ ব্যবহার করলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে।
পোশাক ও জুতা নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন জুতা ব্যবহার করা উচিত যা পায়ের যথাযথ সাপোর্ট দেয় এবং হাঁটার সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত ঢিলেঢালা বা খুব নরম জুতা ব্যবহার করলে হাঁটার গতি ও স্থিতিশীলতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আরামদায়ক এবং উপযুক্ত ফিটিংয়ের জুতা বেছে নেওয়াই ভালো।
হাঁটার সময় অপ্রয়োজনীয় ভারী ব্যাগ বা ওজন বহন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে এমন ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে যা দুই কাঁধে সমানভাবে বহন করা যায়। এতে শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে। একইভাবে হাতে দীর্ঘ সময় পানির বোতল বা অন্য ভারী বস্তু বহন করলেও শরীরের একদিকে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান, প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। নিরাপদভাবে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললে বয়স্ক ব্যক্তিরা শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা উন্নত রাখতে উপকৃত হতে পারেন।