নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক ভূমিকম্পের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে অন্তত ১২টি দেশ ও অঞ্চলে ২.০ বা তার বেশি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি মেক্সিকোতে সংঘটিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার মাত্রা ছিল ৭.৩।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোর পাশাপাশি ফিলিপাইনে ৫.৩, ইয়েমেনে ৫.৩, নিউজিল্যান্ডে ৫.২, সলোমন দ্বীপপুঞ্জে ৫.১ এবং তুরস্কে ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, আলাস্কা, ভানুয়াতু এবং ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জসহ আরও কয়েকটি এলাকায় ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন শনাক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ভূমিকম্প রেকর্ড হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয় অঞ্চলে নিয়মিতই ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে থাকে। ফলে একই সময়ে একাধিক দেশে ভূমিকম্প রেকর্ড হওয়া সব সময় অস্বাভাবিক কোনো বৈশ্বিক ঘটনার ইঙ্গিত দেয় না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর আফটারশক বা পরবর্তী কম্পনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, নিরাপদ আশ্রয় সম্পর্কে সচেতনতা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমিকম্প পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নতুন কোনো তথ্য বা ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত হলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।