ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট পূর্বাভাসে কুড়িগ্রামসহ পাঁচটি জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা বা স্বল্পমেয়াদি প্লাবনের আশঙ্কাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের কয়েকটি বিভাগ এবং ভারতের সীমান্তবর্তী উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানিও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার কয়েকটি নদীতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানা গেছে। এতে এসব জেলার নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী কয়েক দিন বাড়তে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল আংশিক প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীতেও পানি বাড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই নদী-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।