ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ঢাকার পিলখানায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি বাহিনীর অপারেশনাল কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন বলে জানানো হয়েছে।
পরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড মেনে চলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দায়িত্ব পালনে পেশাগত আচরণ বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এছাড়া গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের আস্থা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ কিংবা জাতীয় সংকটের সময় মানবিক ভূমিকা পালন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন অনুসরণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেসিও, বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত বিজিবি সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং পিলখানায় অবস্থিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ সময় তিনি একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তর দেন বলেও জানা গেছে।