ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেন এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে চিকিৎসার জন্য মানুষকে অযথা ভোগান্তিতে পড়তে হবে না এবং সরকারি হাসপাতালই হবে তাদের প্রথম ও প্রধান আস্থার স্থান।
জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে গ্রামের মানুষসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বৈঠকে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক উপস্থিত থাকলেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে তথ্য উপস্থাপন করেন। তারা জানান, দীর্ঘদিনের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উন্নত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। জানা গেছে, বর্তমানে যেসব জেলায় ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জনবল তৈরি এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত অবকাঠামো, জনবল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং সরকারি হাসপাতালের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়াতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।