ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের দাবি-প্রতিদাবির মধ্যে এবার ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে ভিডিওটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে একজন তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওর বিভিন্ন অংশে তাকে কখনও মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং কখনও ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থানে দেখা গেছে বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে ভিডিওতে দেখা ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে একই কক্ষের আরও কিছু ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় কয়েকজন দলীয় নেতা ভিডিওতে থাকা তরুণীকে সংসদ সদস্যের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে রিউমর স্ক্যানার জানায়, ভাইরাল ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে সেখানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য আলামত পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ভিডিও ও অডিওর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক পরীক্ষা করে কোনো ডিজিটাল কারসাজি, সম্পাদনার অসামঞ্জস্য কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার প্রমাণ শনাক্ত করা যায়নি।
রিউমর স্ক্যানারের তথ্যমতে, ভিডিওটির বিভিন্ন ফ্রেম, অডিও এবং দৃশ্যগত উপাদান পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণের পর এটি বাস্তব ভিডিও হওয়ার পক্ষে তাদের বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বা ঘটনার নৈতিক ও আইনি দিক সম্পর্কে আলাদা কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ বা ভিডিওর প্রেক্ষাপটে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা আদালতের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা রায় প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকলে তার ফলাফলের অপেক্ষা করাই সমীচীন।