নিজস্ব প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। পোস্টটিতে একজন তরুণীর চাকরির আবেদন, সুপারিশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশ করেনি।
পোস্টে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তরুণীর জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) অনুযায়ী তার বয়স প্রায় ১৮ বছর। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, এসএসসি শেষ করার পরই চাকরির খোঁজে নামার বিষয়টি তার পারিবারিক আর্থিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তবে এসব তথ্যের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়েছে, দেশের অনেক সাধারণ মানুষ চাকরির আশায় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট তরুণীর সিভি স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির কাছে পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়েছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ওই সিভিতে সুপারিশ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এরপর পোস্টের লেখক অভিযোগ করেন, চাকরির আশ্বাস বা সুপারিশকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি নিজেও উল্লেখ করেছেন যে, এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ তার কাছে নেই এবং বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ, পোস্টে উপস্থাপিত বক্তব্য মূলত একটি অভিযোগ ও সন্দেহের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগটি যদি ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তের মাধ্যমে দায়মুক্তি পেতে পারেন। অন্যদিকে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লেখক সংসদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট ফেসবুক পোস্টের অভিযোগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব দাবি ও অভিযোগকে এখনই সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।