নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাগেরহাটের এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে ঘিরে হৃদয়স্পর্শী একটি ঘটনার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে আলোচনায় এসেছে। জানা গেছে, বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে রাতে কর্মস্থলে হাজির হন তিনি। আর পরদিন সকালে অংশ নেন এইচএসসি পরীক্ষায়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর নাম ইকন। তিনি বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা এবং বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এরপর জোহরের নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন করে মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
পরিবারের দাবি, ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বড় ছেলে ইমন আগে বাবার সঙ্গে কাজ করলেও একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর সংসারের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের ব্যয় মেটাতে ইকন বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের পালায় খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেন। বাবার দাফন শেষে শোকের মধ্যেই তিনি রাতের ডিউটিতে যোগ দেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে পরদিন, অর্থাৎ ২৩ জুলাই, তার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা ছিল। পরিবারের এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং দায়িত্ব পালনের চেষ্টা অনেকের নজর কেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন বলেন, ইকনের জীবনের এই কঠিন বাস্তবতা সমাজের অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হতে পারে। শোক, আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক দায়িত্ব—সবকিছুর মাঝেও তিনি নিজের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ইকন ও তার পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেছেন এবং এমন পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, একদিকে বাবাকে হারানোর গভীর বেদনা, অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব, চাকরি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন—এই তিনটি বাস্তবতার সঙ্গে একসঙ্গে লড়াই করে চলেছেন ইকন। তার এই সংগ্রামের গল্প মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং অধ্যবসায়ের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।