
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গন থেকেও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকার ফেসবুক পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া, যিনি মোনামী নামেও পরিচিত, ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কয়েক দিন আগেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখে তিনি বিস্মিত হন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এর আগে, গত ২০ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে একজন তরুণীর সঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি দ্রুত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনার পর গাজী নজরুল ইসলাম এক লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পায় এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মতামত ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এদিকে, ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে জানা গেছে। দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্যের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যেকোনো তথ্য বা ভিডিও যাচাই ছাড়া প্রচার বা শেয়ার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই এমন সংবেদনশীল বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে মতামত দেওয়া এবং গুজব এড়িয়ে চলা জরুরি।