নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, প্রতারণা, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের আশায় ঢাকার উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছেন এক বৃদ্ধ। অভিযোগকারী ফুকন মিয়া স্থানীয়ভাবে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পর্যায়ে নিজের বক্তব্য পৌঁছে দিতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সিলেট থেকে কয়েক দিনের পদযাত্রায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি এলাকায় পৌঁছান। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বহুবার অভিযোগ জানালেও কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। তাই শেষ আশা হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের অভিযোগ তুলে ধরতে ঢাকার পথে হাঁটছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফুকন মিয়ার বাড়ি সিলেট জেলার শাহপরান থানার ইসলামপুর ডাকঘরের মিরাপাড়া নয়াবাড়ি এলাকায়। তার দাবি, চাচাতো ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে তার প্রায় ৪৪ ডিসিমেল জমি, একটি মসজিদের জমি এবং বসতভিটা দখল করে রাখা হয়েছে।
এছাড়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে তাকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই মামলায় তাকে প্রায় ২৫ মাস কারাভোগ করতে হয়েছে বলে তার দাবি। একই সঙ্গে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার একটি চেক নেওয়া হলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ফুকন মিয়ার ভাষ্য, ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যানের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে তাকে আবারও নতুন মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
ফুকন মিয়া বলেন, তিনি কোনো প্রতিশোধ চান না; শুধু ন্যায়বিচার চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের জমি, বসতভিটা এবং সম্মান ফিরে পেতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এদিকে তার এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের মতামত পাওয়া গেলে সেটিও প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।