ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের সরে দাঁড়ানোর পর তার ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তা স্পিকার গ্রহণ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা গেছে। একই সঙ্গে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব ছাড়লেও তার সব ধরনের সরকারি সুবিধা সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাচ্ছে না বলে আলোচনা চলছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসর-পরবর্তী সময়েও কয়েকটি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার সুযোগ পান।
জানা গেছে, দি প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (পরবর্তী সংশোধনীসহ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রপতির পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেন অথবা অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তিনি সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
এ ছাড়া আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য একজন ব্যক্তিগত সহকারী এবং একজন অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক ভাতাও দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রয়োজন হলে বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগও সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য বহাল থাকতে পারে। এছাড়া তার বাসভবনে একটি সরকারি টেলিফোন সংযোগ এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে সেই সংযোগের বিল সরকার বহন করার বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনে উল্লেখ আছে।
আরও জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ রাখতে পারেন। পাশাপাশি একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহারের সুবিধাও আইন অনুযায়ী বহাল থাকতে পারে। দেশের অভ্যন্তরে সরকারি সফরের সময় সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুযোগও বিদ্যমান বিধানের অংশ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এসব সুবিধা কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ফলে বাস্তবায়নের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।